Thursday, February 22, 2018

অষ্টাদশী গল্পবৈঠক


অয়ন চৌধুরী

প্রদীপ গুপ্ত ( যুগ সাগ্নিক পত্রিকা)
যেন সমাপতন। গল্পবৈঠকের ১৮তম সম্মেলন পড়েছিল ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৮ তারিখে।স্থান : গান পয়েন্ট ক্যাফে। মনোহরপুকুর রোড। কলকাতা।  রিভিউ লিখলেন জয়তি রায়। 

‘গল্পবৈঠকের’ আসরে প্রথমবার গিয়ে কবি সুকান্তর কবিতার সেই বিখ্যাত লাইনটি মনে পড়ে যাচ্ছিল।

   "আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়"
ঠিক তাই সাবালিকার ভয় কি পথচলায়?

গল্পবৈঠকর আঠারোতম সম্মেলন ছিল সেদিন । ফাগুনের মাতাল দুপুর, খোলা বাতাবরণ, রঙ্গীন মনের এক গুচ্ছ নবীন লেখককে দেখে  মনে হল, আঠারো বসন্তের স্পর্ধা নেমে এসেছে ওখানে। উপলব্ধি দেরিতে হলেও বুঝলাম ,স্থানটিও একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে রয়েছে। খোলামেলা, সুন্দর আলো, বসবার জন্য ছড়ানো ছিটানো চেয়ার গুলি, অপূর্ব এক আড্ডা হাওয়া মহল তৈরি । আয়োজক লেখিকা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়।

উপস্থিত ছিলেন আরো এক ইন্দিরা। তিনি একাধারে সুগায়িকা ও সঞ্চালিকা ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় । সভাকে বেঁধে রেখেছিলেন নিপুণভাবে। সবকটি গুণী সদস্যের উজ্জ্বল উপস্থিতি সভাকে একটি অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিল।

সঞ্চালিকা এবং গায়িকা ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়


 এবারের গল্পের বিষয় ছিল: প্রেম ও সম্পর্ক। বাঁধাধরা শব্দসীমার মধ্যেও প্রত্যেক লেখক পরিবেশন করলেন, টানটান, সংবেদনশীল, বলিষ্ঠ বক্তব্যপূর্ণ  নিজেদের গল্প। শুরুতে এবং মধ্যে মধ্যে ইন্দিরার রবীন্দ্রসংগীত, আলোচকদের আলোচনায় ভরপুর সভাটি দেখে মনে হচ্ছিল, সাহিত্যের মধ্যে দিয়ে স্বয়ং ঈশ্বর নেমে এসেছেন।

মোট এগারটি গল্প পাঠ হল। প্রত্যেকটি গল্প ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যে, বক্তব্যের বলিষ্ঠতায়, ভাষার সাবলীলতায় এবং পরিচ্ছন্ন শব্দ চয়নে উজ্জ্বল। প্রেম, বিরহ,পরকীয়া, মা ছেলে, শাশুড়ী বৌমা -- চিরাচরিত সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রকৃতির নিখুঁত বর্ণনা--

প্রেম ও সম্পর্কের নানা দিক দিয়ে ভরপুর গল্পগুলি শুনতে শুনতে মুগ্ধ নির্বাক শ্রোতারা এক কথায় মধুর মৌমাছির মত আটকে বসে ছিল।

মাঝে মাঝে গল্পগুলি নিয়ে সুন্দর আলোচনা করছিলেন, প্রদীপ গুপ্ত(সম্পাদক যুগ সাগ্নিক)
এবং অয়ন চৌধুরী (সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ)

 

সুকল্যাণ চৌধুরী
জয়তি রায়
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়
ভাস্বতী বন্দ্যোপাধ্যায়
সোনালী

তমালী রায়
তপশ্রী পাল

বুবুন চট্টোপাধ্যায়
কৃষ্ণা রায়


মহুয়া মল্লিক
আর উপস্থিত ছিলেন  সুকল্যান চৌধুরী-- আমাদের গুণী বন্ধু । হঠাৎ এসে পড়ে, মুগ্ধ করলেন গানে ও মনোগ্রাহী আলোচনায়।

আসরের প্রথম গল্পটি পাঠ করলেন, নন্দিনী সেনগুপ্ত। গল্পের নাম - খেলা। একটা খেলার মধ্যে দিয়ে গল্পটি বুনে উঠেছে। খেলাটি হল-- বাংলা ছাড়া অন্য শব্দ বললেই ফাইন হবে। রাকা আর সুমন্ত্র আর চাঁদিপুরের মধুচন্দ্রিমা যাপনের মধ্যে টুকরো টুকরো সংলাপ দিয়ে তৈরি এক পরিপূর্ণ ছবি। দুদিন পরেই একুশে ফেব্রুয়ারী। ভাষা দিবস। সেই প্রেক্ষিতে,গল্পের শেষে যখন , সুমন্ত্র বলে-- থ্যাংক ইউ।”
রাকা বলে যে, দুবার টাকা দিতে হবে। কেন না,দুটি ইংরেজি শব্দ বলা হয়েছে। শেষটি অতি সুন্দর। গল্পের নাম খেলা অতি সুপ্রযুক্ত।

কৃষ্ণা দাস
নন্দিনী সেনগুপ্ত


জয়তী রায়ের একলা ফাগুনে -- ঘটনার ঘনঘটা বা বর্ণনার বিস্তার নেই। এক একলা মনের দিকশূন্যপুর যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে বাঁধা পড়ে আছে সংসার ধর্মের শিকলে, তাই নিয়ে এক কাব্যধর্মী অনুগল্প বলা যায়।

কৃষ্ণা দাশের খাদান গল্পে তুলে এনেছেন কয়লা খাদানের চরিত্র-- “বাবার মৃত্যুর পর দিন গুলি কয়লা গুঁড়ির মত কালো হয়ে যাচ্ছে।’ প্রাঞ্জল বর্ণনা, ধেনো মদ, হাতে সোনার বালা চক চক ,কয়লা মাফিয়ার রূপ ফুটে ওঠে। খাদান নামটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকল  নরনারীর সম্পর্কের অতল গভীর খাদানের মত রহস্য। কৃষ্ণার গল্পের সাবলীল রূপ মুগ্ধ করে।

ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের উড়নচন্ডী গল্পে মা পদ্মা আর উত্তরদিশায় কুড়িয়ে পাওয়া মেয়ে উত্তরার মধ্যেকার সম্পর্কের টানাপোড়েন, একে অন্যের প্রতি মমতা, দায়িত্ববোধ আর তার মধ্যে এসে পড়ে বস্তি, নিম্ন শ্রেণীর সমাজ, কেমন ভাবে শোষিত হয় ‘বাপী’র মত মানুষদের কাছে। যারা অসহায় মা মেয়ে দুজনকেই ছিঁড়ে খায়। কিশোরী বয়সের খিদে, পড়াশুনো করার অদম্য ইচ্ছে থেকে উত্তরা বাপিকে কাছে ঘেঁষতে দিলেও সখেদে বলে
বাপীদা এগরোলও কিনে দেয় না!” সমাজ, এবং সম্পর্ক হাত ধরাধরি করে এই গল্পে উঠে এসেছে এই গল্পে ।

আলোচক দুজন প্রদীপ গুপ্ত এবং অয়ন চৌধুরী সদা সতর্ক থেকে নিজেদের মূল্যবান মতামত দিচ্ছিলেন। পাঠ করা নিয়ে অয়ন বলতে চাইলেন "গল্প লেখার মত ,পাঠ ও সুন্দর হবার দরকার আছে” 

প্রদীপ দা সুন্দর করে বোঝালেন যে, ইন্দিরার এই গল্পটির মধ্যে লুকিয়ে থাকা আগামী উপন্যাসের সূত্র।

বলে রাখা ভালো,গল্প পড়ার ফাঁকে ফাঁকে মাঝে মধ্যেই সংগীতশিল্পী ইন্দিরার গলার রবীন্দ্রসংগীত শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল এক অন্য ভুবনে পৌঁছে গেছি। সংগীত আর সাহিত্যের এই অপূর্ব মেল বন্ধন সম্ভব হয়েছিল, গল্প বৈঠকের কান্ডারী লেখক ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের জন্য। ওনাকে মাইকের ব্যবস্থা, সুস্বাদু জলখাবারের ব্যবস্থা, সবার সব রকম কথা শুনে মিষ্টি করে হেসে উত্তর দেওয়ার পরে অনুষ্ঠানকে তর তর করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কি করে সম্ভব হল, ভেবে আমি /আমরা যথারীতি মুগ্ধ হচ্ছিলাম।

ভাস্বতী বন্দ্যোপাধ্যায়ের  "প্রেম” নামের গল্পটিতে সম্পর্ক এবং প্রেম দুটিই যেহেতু অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, তাই দুটো দিকই এই গল্পে ফুটে উঠেছে সুচারু ভাবে। কাজের মেয়ে তার জীবনের গল্প বলে। কেমন করে তার চেয়ে বয়সে অনেক বড় স্বামী তাকে মদ খেয়ে মারধোর করে। প্রথম পক্ষের এক বউও আছে আবার। তবু সে স্বামীকেই, তার মরদকেই ভালোবাসে। এক অদ্ভুত টান। যার জন্য বাকি সব না পাওয়া তুচ্ছ হয়ে যায় তার কাছে! শুনতে শুনতে ভাবি, কত সামান্য ত্রুটি তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের সম্পর্কককে ভেঙে চুরমার করে দেয়। আর এই কাজের মেয়েটি ? কোনো শর্ত ছাড়াই সে কেবল ভালোবাসে। love for love's sake। নিজের থেকেও সেই মাতাল স্বামীর সুখ তার কাছে বড়। সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা, ভাস্বতীর এই গল্পটি তার নামের মতই সার্থক।

গল্প পাঠ করলেন বুবুন চট্টোপাধ্যায়: গল্পের নাম “মায়া”। আসরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প বলা যায়। প্রথমেই ধাক্কা খাই, গল্পের বিষয়বস্তুতে। বিদেশে থাকা সন্তানের প্রয়োজনে দেশ থেকে মা বাবাকে যেতে হয় বিদেশে। সেখানে যাবার পরে কুরে কুরে খায় একাকীত্ব। বুবুন বাড়তি কথার মধ্যে যান নি, অতিরিক্ত ভাবাবেগ, শব্দ প্রয়োগ কিছুই না করে, সামান্য সামান্য মোচড়ে ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন এমন ভাবে যে, গল্পের শেষে এসে সোনালী মাছের ল্যাজ ঝাপটে ঘুরে তাকানোর মধ্যে দিয়ে বোঝা যায়, মায়ের বুকের ভেতর “কেউ’ যে ডাকছিল ,সে আসলে তার নিজের চেনা পরিবেশ। অনবদ্য।

তপশ্রী পালের "সেই সাগর বেলা" গল্পে পঞ্চাশ পেরোনো নায়িকা মনে করছে তার ফেলে আসা মধুচন্দ্রিমার দিন গুলির কথা। সে যেতে চেয়েছিল পাহাড়ে, স্বামী নিয়ে এলো সাগরের কূলে। নামী দামী হোটেলের স্বাচ্ছন্দ্যে তর তর করে কেটে গেল দিনগুলি। মন থেকে মুছেও গেল পাহাড়ে না যাবার অভিমান। তবে, একদিন এক বিপদ ঘটতে যাচ্ছিল। গল্পটির ছোট ছোট মুহূর্ত গুলি ভারি সুন্দর। যেমন কলার খোসায় পা পিছলে পড়ে নায়িকা লেখনীর ব্যাগ খুলে বেরিয়ে এলো হাজার কসমেটিকস। ফ্লুরিসে বসে সংলাপ আর লেখনীর খুনসুটি।
হোটেল বা অন্য কোনো জায়গার নাম প্রকাশ্যে না বলাই ভালো, এমনতর বক্তব্য রাখলেন আলোচক তপশ্রীর গল্প পাঠের শেষে।

সোনালীর গল্পকে বলা যায় তার ধারাবাহিক উপন্যাস  “ল্যাপটপ আর হাভেলীর গল্প” থেকে নেওয়া এক টুকরো অথচ সম্পূর্ণ ছবি, তার নাম “হাভেলীর গল্প”
গল্পে রিন রিন করে বাজে মিষ্টি প্রেমের সুর। খাড়ি হিন্দী, রাজস্থানী উর্দু শব্দের যথাযথ ব্যবহার গল্পে এনেছে অন্য মাত্রা। গল্পের নায়িকার নাম সোহিনী। নামটি উচ্চারণ মাত্রেই যে গভীর মিষ্টি রাগ সংগীত মনের আকাশে ফুটে ওঠে, নায়িকা তেমনই সুন্দর। অসাধারণ চিত্রকল্প এই গল্পের। সোনালী যেন অক্ষরের তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন রাজস্থানী রঙ্গীন জীবন। তখন বিকেল নামছিল ধীরে ধীরে। মন্ত্রমুগধ শ্রোতারা ডুবে যাচ্ছিলাম হাভেলীর ছায়াঘন রহস্যে।
চা পানের বিরতির পর শুরু করলেন অধ্যাপিকা কৃষ্ণা রায়।  তাঁর ছোট গল্পের নাম ‘নষ্টচন্দ্র’। আমাদের আড্ডায় তখন হ্যারিকেনের মধ্যে জ্বলে উঠেছে হলুদ আলো। পরিবেশ আরো সুন্দর। খুব উপযুক্ত। নষ্টচন্দ্র গল্পটি অসাধারণ মনস্তাত্বিক বুনোটের উপর ভিত্তি করে লেখা। নিছক শাশুড়ি বৌমার দ্বন্দ্বের কাহিনী নয় । এখানে এসেছে অস্তিত্বের সংকটের কথা। কাহিনীতে অঙ্ক বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুটি নারীর কথা। যারা দুজনেই অঙ্ক ভালোবাসে। দুজনে নিজের মত করে বিষয়টিকে বোঝে। দুজনের জায়গায় দুজনে অনড়। জীবনের অঙ্ক মেলাতে পারেনা কেবল স্ত্রী আর মায়ের মাঝে থাকা পুরুষটি। গল্প শেষ হবার পরে কিছুক্ষন চুপ করে থাকতে হয়। সঠিক শব্দসীমার মধ্যে খেলা করে কৃষ্ণার জাদু কলম মনের মধ্যে এক চাপা দীর্ঘশ্বাসের সৃষ্টি করে। আর পাঠটিও যথা যত।

তমালী রায়ের গল্প “আমার সকলই নিয়ে” প্রেম এবং সম্পর্কের গল্প। অসাধারণ সংলাপ এবং লেখার মসৃন ভঙ্গি বজায় রেখে তমালী দেখিয়েছে, কিভাবে দাম্পত্য প্রেমে আসে তৃতীয় ব্যক্তি। এই সঙ্গে নাসির আর পিয়াসার সম্পর্ক তুলে আনে মুসলিম সমাজের একটি দিক। বিষয় বৈচিত্র্য, চরিত্র চিত্রণ অসামান্য দক্ষতায় ফুটে উঠলেও, আলোচক সামান্য আপত্তি করেন, গল্পের মধ্যে গান রাখা এবং ইংরেজী শব্দের ব্যবহার নিয়ে।

এই পর্যন্ত  যতগুলি গল্প শুনেছি, প্রত্যেকটি গল্পকে আলাদা করে লেখা উচিত বলে মনে করি। ঠাস বুনোন, জীবন্ত চরিত্র চিত্রণ, উপযুক্ত সংলাপ সৃষ্টি, পরিবেশ প্রকৃতির যথাযথ বর্ণনায় পূর্ণ প্রতিটি গল্প আলাদা মনোযোগের দাবী রাখে।

প্রকৃতি পরিবেশের সার্থক উদাহরণ শেষের গল্প

 দৃশ্যান্তর। লিখেছেন মহুয়া মল্লিক।

ট্রেনের ডেইলি প্যাঞ্জারের জীবন যাত্রা। ট্রেন চলছে। পলকে বদলে যাচ্ছে জীবনের ছবি। ছুটছে ট্রেন। কখনো ধীরে কখনো দ্রুত। দেখা যাচ্ছে উকুন বাছে এক মেয়ে, সংসার , হাঁড়ি কুড়ি, ছেলে মেয়ে, খেজুর গাছের রস , মান অভিমান মিলিয়ে মিশিয়ে এক নিটোল ছবিকে দেখে নিজেকেই যেন খুঁজে পায় সুলগ্না। তার প্রেম এবং প্রতারণার কষ্ট ওই ট্রেনের কামরায় ঘটে যায়, তারই প্রতিরূপ যেন ওই মেয়েটির সংসার।  একটুকরো নির্মম সমাজ -ছবি  দেখতে পাই ,  সুলগ্নার  প্রতি কামরার সহযাত্রীদের টিপ্পনীতে। হতাশা - আক্রান্ত সুলগ্নার সামনে আবার দাঁড়ায় ওই মেয়েটি তার সুখী জীবন নিয়ে। তাই দেখে সুলগ্নাও ফিরে পায় মনের জোর।

গল্পটির, বিশেষত্ব তার চলনের মধ্যে এবং শেষের পজিটিভ দর্শনের মধ্যে।
এর পরে, সুগায়িকা ইন্দিরার একটি অনবদ্য মুক্ত গদ্য পাঠ ও গানের সুরে আসর মেতে ওঠে ফাগুন হাওয়ায়। চমক বাকি ছিল । নতুন অতিথি সুজাতার কণ্ঠে একটি ঝলমলে লোকগীতি হঠাৎ কানে এসে বেজে, প্রাণে দোলা লাগিয়ে দিল।
সুস্বাদু জলখাবার এসে গেল। সবশেষে, এবার বিদায়ের পালা। কোথায় যাবো? যাচ্ছি বটে, কিন্তু আবার যেন ফিরে আসতে পারি গল্প বৈঠকের আসরে। এমন প্রতিশ্রুতির আদান প্রদানের মধ্যে দিয়ে শেষ হল-- আঠারোতম গল্প বৈঠকের আসর।